রাজধানীর হাতিরঝিলে দীপ্ত টেলিভিশনের সম্প্রচার কর্মকর্তা তানজিল জাহান ইসলাম, যিনি তামিম নামে পরিচিত, হত্যার ঘটনায় পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
গতকাল শনিবার ভোরে মো. রাসেল (২২) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ নিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতারের সংখ্যা ছয় জনে পৌঁছেছে।
এর আগে গ্রেফতার হওয়া পাঁচজন হলেন- আব্দুল লতিফ (৪৬), কুরবান আলী (২৪), মাহিন (১৮), মোজাম্মেল হক কবির (৫২) ও বাঁধন (২০)।
হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গোলাম আযম জানান, ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে রাসেলকে শনাক্ত করা হয় এবং তিনি সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার সকালে হাতিরঝিল এলাকার মহানগর প্রজেক্টের একটি আবাসিক ভবনে তামিমকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তামিমের পরিবার ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। নিহতের বাবা সুলতান আহমেদ এই মামলার বাদী।
ওসি সাইফুল ইসলাম বলেছেন, মহানগর প্রজেক্টের ওই বাড়ির জমির মালিক তামিমের বাবাসহ মোট তিনজন। তাদের সঙ্গে দ্বন্দ্বের জের ধরে ওই বাড়িতে ঢোকেন ডেভেলপার কোম্পানির ‘প্লেজেন্ট প্রোপার্টিজ’ এর লোকজন। তাদের সঙ্গে বহিরাগত কয়েকজন ছিলেন। তারা ল্যান্ড ওনারদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা শুরু করেন।
তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে তারা তামিমের বুকে কিল-ঘুষি দেন। এরপর তার গলা টিপে ধরেন। তামিম অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয়দের কয়েকজন তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান।
আবাসন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ফ্ল্যাট মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে জমির মালিকের ছেলেকে হত্যাকাণ্ড বলেও জানায় পুলিশ।
তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার রুহুল কবির খান জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মামুন এবং বিএনপি নেতা শেখ রবিউল আলম রবির প্রাথমিক সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। তদন্ত শেষে তাদের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মামুন তার শ্বশুরের নামে ওই ভবনে একটি ফ্ল্যাট কিনেছেন।
এদিকে, রবির বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগে বিএনপির পক্ষ থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়েছে। দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সই করা চিঠি রবির কাছে পাঠানো হয়েছে। দলের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, রবিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হাজির হয়ে চিঠির জবাব দিতে বলা হয়েছে।
রবির বিরুদ্ধে অভিযোগ হল জমির মালিককে প্লিজেন্ট প্রোপার্টিজ লিমিটেডের মাধ্যমে পাঁচটি ফ্ল্যাট দেওয়ার চুক্তি থাকলেও, তারা দুটি হস্তান্তর করেছে এবং বাকি তিনটির মধ্যে একটি ফ্ল্যাট অবৈধভাবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তার শ্বশুরের কাছে বিক্রি করে দেন তিনি। ওই ফ্ল্যাটটি তারা অবৈধভাবে দখল করে রেখেছিল, যা নিয়ে গত তিন বছর ধরে দ্বন্দ্ব চলছিল।
তামিমের পরিবার এই হত্যার বিচার দাবি করে মানববন্ধন করেছে। তামিমের মা খুরশিদা বেগম বলেন, আমার বুকটা জ্বলতাছে। আমার ছেলে নিরীহ ছিল। কেন তাকে এভাবে মারা হলো?
বাবার বক্তব্য, আমরা কোনো খারাপ কাজ করিনি। আমাদের সন্তানকে যারা হত্যা করেছে, তাদের বিচার চাই।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

দীপ্ত টিভির তামিম হত্যা
বিএনপি নেতা রবিকে ধরতে চলছে সাঁড়াশি অভিযান
- আপলোড সময় : ১২-১০-২০২৪ ১১:২৭:১৯ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ১২-১০-২০২৪ ১১:২৭:১৯ অপরাহ্ন


কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ